মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২ ইং         ০২:৫১ অপরাহ্ন
  • মেনু নির্বাচন করুন

    কুলিয়ারচরে একাধিক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার বাদীকে হুমকির অভিযোগ


    প্রকাশিতঃ 02 Feb 2022 ইং
    শেয়ার করুনঃ


    মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ


    কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একাধিক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলার বাদীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।


    কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর পুত্র আরশ মিয়া (৫০) অভিযোগ করে বলেন, তার পার্শ্ববর্তী বাড়ির সামছুউদ্দিনের পুত্র আতিকুর রহমান ওরুফে আতিকুল (২৮) আরশ মিয়ার স্বাক্ষর জাল করে তাহার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পায়তারা করাসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি প্রদানের অভিযোগে গত ২০২১ সালে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ৯৮ ধারায় বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-২ কিশোরগঞ্জে একটি পিটিশন মোকদ্দমা নং- ৫৭৭/২০২১ দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার পর গত ২০২১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ৪৮ নং স্বারক মূলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ওসি কুলিয়ারচর থানাকে নির্দেশ দেন বিজ্ঞ আদালতের বিচারক। ওসি কর্তৃক তদন্তের ভার পেয়ে থানার এসআই (নিঃ) কাউসার আল মাসুদ সার্বিক তদন্ত করিয়া গত ২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-১ কিশোরগঞ্জে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন আতিকুর রহমান ওরুফে আতিকুল সহ তার বড় ভাই ইকবাল মিয়া (৩০) ও তার পিতা সামছুউদ্দিন (৬৫) গত ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে বাদীর বসত ঘরে বসিয়া বাদীর জ্ঞাতসরে একটি ও বাদীর অজ্ঞাতসরে দুইটি ১০০ টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক ভাবে সত্য বলিয়া প্রমাণিত হয়েছে। এ রিপোর্ট পেয়ে বিজ্ঞ আদালতের বিচারক গত ৪ জানুয়ারি বাদী পক্ষের আর্জিতে উল্লেখিত স্ট্যাম্প বিবাদীর নিকট থেকে উদ্ধার করে আদালতে উপস্থাপন করার জন্য ওসি কুলিয়ারচর থানাকে নির্দেশ দেন।


    এব্যাপারে স্ট্যাম্প উদ্ধারের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত অফিসার এসআই কাউসার আল মাসুদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বহু চেষ্টা করেও স্ট্যাম্প গুলো উদ্ধার করতে পারেননি তিনি। তবে তার নিকট মোঃ আরশ মিয়া নাম স্বাক্ষরিত ১০০ টাকা মূল্যের তিনটি লিখিত স্ট্যাম্পের ফটোকপি আছে। স্ট্যাম্পে ওই স্বাক্ষর গুলো কার তা পরীক্ষা ছাড়া বলতে পারবেন না বলেও জানান তিনি।


    এব্যাপারে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান ওরুফে আতিকুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে একটি ১০০ টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে আরশ মিয়ার স্বাক্ষর নিয়েছে বলে স্বীকার করে বলেন, বাকি দুটি স্ট্যাম্পে আরশ মিয়ার স্বাক্ষর তারা নিজেরাই দিয়েছে। তবে স্ট্যাম্প দুটি ছিড়ে ফেলেছে বলেও দাবী করেন। আবার বলেন স্ট্যাম্প গুলো আরশ মিয়াকে ফেরত দিয়ে দিবো।


    এব্যাপারে স্থানীয় ডুমারাকান্দা বাজারের ব্যবসায়ী মো. বাবুল মিয়া (৪০) বলেন, আরশ মিয়ার স্বাক্ষরিত ১০০টাকা মূল্যের লিখিত তিনটি স্ট্যাম্প তাকে দেখিয়েছেন এসআই মো. আলী আকবর।


    ডুমরাকান্দা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি হাজী মো সুরুজ মিয়া (৬৮) বলেন, আরশ মিয়ার স্বাক্ষরিত ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা উল্লেখ করা ১টি ১০০টাকা মূল্যের স্ট্যাম্প তার নিকট জমা দিয়েছে আতিকুর রহমান।


    এ সংবাদ পেয়ে আতিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জমি বিক্রয় করার কথা বলে আরশ মিয়া তার নিকট থেকে দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে প্রমাণ হিসেবে ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বায়না পত্র নিয়েছে উল্লেখ করে একটি একশত টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে লেখা লিখি করে স্বাক্ষর দিয়েছেন। টাকা নেওয়ার পর জমি লিখে না দেওয়ায় জিদ করে মানুষের কথায় কয়েকটি স্ট্যাম্পে আরশ মিয়ার জাল স্বাক্ষর করে তাকে ভয় দেখিয়েছি। স্ট্যাম্প গুলো দেখতে চাইলে এক পর্যায়ে তার দোকানের ক্যাশ থেকে ৫টি স্ট্যাম্পের ফটোকপি বের করে দেখিয়ে বলেন, আমার টাকা ফেরত দিয়ে দিলে স্ট্যাম্প গুলো আমি ছিড়ে ফেলবো। এসব স্ট্যাম্পে মোঃ আরশ মিয়া উল্লেখ করে স্বাক্ষর রয়েছে।স্ট্যাম্প গুলোর মধ্যে ৩টি ১০০টাকা ও ২টি পাঁচ টাকা মূল্যের ছিলো। ১০০টাকা মূল্যের লিখিত স্ট্যাম্প যাহার নাম্বার যথাক্রমে কল ২৮৪৪৫২৭, কল ২৮৪৪৫২৮ ও কল ২৮৪৪৫২৯। স্ট্যাম্পের পিছনে লিখা রয়েছে মো. আতিকুর রহমান, দড়িগাঁও, ক্রমিক নং যথাক্রমে-৩২৮২, ৩২৮৩ ও ৩২৮৪, তারিখ- ১৯/১১/১৯। উক্ত তিনটি স্ট্যাম্পে আরশ মিয়া নাম উল্লেখ করে স্বাক্ষর করা হয়েছে ০৩/১২/২০১৯ ইং তারিখ। অর্থাৎ স্ট্যাম্প ক্রয়ের ১৫ দিন পর। উক্ত স্ট্যাম্পে উল্লেখ করা হয়েছে আতিকুর রহমানের নিকট সাড়ে তিন শতাংশ জায়গা বিক্রয় করার চুক্তি হিসেবে তার নিকট থেকে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা নগদ গ্রহন করেছে আরশ মিয়া। এছাড়া মোঃ আরশ মিয়া নামক স্বাক্ষরিত পাঁচ টাকা মূল্যের লিখিত দুইটি স্ট্যাম্প যাহার নাম্বার যথাক্রমে থ ১২১৩১৭৯ ও থ ১২১৩১৮০। স্ট্যাম্প দুইটিতে আরশ মিয়া নাম উল্লেখ করে স্বাক্ষর করা হয়েছে গত ১১/১২/২০১৯ ইং তারিখ। উক্ত স্ট্যাম্পে উল্লেখ রয়েছে আরশ মিয়া বিবাদী মো. আতাউর রহমনের (আতিকুর রহমান) নিকট থেকে দুই লক্ষ বিশ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন।


    আরশ মিয়ার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ জাল স্বাক্ষর তৈয়ারি করে একাধিক সৃজিত এসব স্ট্যাম্প দ্বারা আতিকুর রহমান কুলিয়ারচর থানায় জিডি ও লিখিত অভিযোগ করে এসআই আলী আকবরকে দিয়ে আরশ মিয়াকে নিয়মিত হুমকী প্রধান করে দেড় মাস বাড়ি ছাড়া করে রেখে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের  মানষিক ভাবে হয়রানী করেছে। বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করায় আতিকুর রহমান তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আরশ মিয়াকে মামলা তুলে আনার জন্য বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এসব হুমকি ধামকির ভয়ে  আরশ মিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতংকে দিন কাটাতে হচ্ছে। 


    অভিযুক্ত আতিকুর রহমান ২লক্ষ ২০ হাজার টাকা আরশ মিয়ার নিকট আমানত হিসেবে জমা রেখে একটি ১০০টাকা মূল্যের স্ট্যাম্পে লিখা লিখি করে আরশ মিয়ার নিকট থেকে একটি স্বাক্ষর নিয়েছে দাবী করে বাকী স্ট্যাম্প গুলোতে জাল স্বাক্ষরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জাল স্বাক্ষরিত একাধিক স্ট্যাম্প উদ্ধার করতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে আতিকুর রহমানসহ তার সহযোগিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন আরশ মিয়া।


    আপনার মন্তব্য লিখুন
    © 2022 muktir71news.com All Right Reserved.
    Developed By Skill Based IT